ভবিষ্যতের পাঁচটি চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা শেখা বর্তমান সময়ে কোনো শখের বিষয় নয়, বরং এটি সবার জন্যই খুব দরকারি। আমরা যখন ছোটবেলায় অংক বা ভাষা শিখি, তখন আমরা অন্যদের সাথে কথা বলার শক্তি পাই। ঠিক একই ভাবে এই নতুন দক্ষতা গুলো হলো মেশিনের সাথে কথা বলার ভাষা। এটি আমাদের শেখায় কীভাবে একটি স্মার্টফোন বা কম্পিউটার কাজ করে এবং কীভাবে আমরা এগুলোকে আমাদের কাজে লাগাতে পারি।
আজকের দিনে আমরা যেসব স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করি, তার সবকিছুর মূলে রয়েছে এই জ্ঞান। আপনি যদি এই বিষয়গুলো বোঝেন, তবে আপনি প্রযুক্তির শুধু ব্যবহারকারী হবেন না, বরং আপনি নিজেই নতুন কিছু তৈরি করতে পারবেন। নিচে পাঁচটি চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ
১. ডেটা অ্যানালিটিক্স স্কিলঃ
ডেটা মানে হলো তথ্য। অনেক অনেক তথ্যের ভেতর থেকে দরকারি তথ্য খুঁজে বের করা এবং তা দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারাই হলো এই কাজ। এটি আমাদের অংক করার মতো সাহায্য করে যাতে আমরা বুঝতে পারি ভবিষ্যতে কী হতে পারে। যারা এই কাজে দক্ষ হবে, বড় বড় কোম্পানি তাদের অনেক সম্মান করবে কারণ তারা তথ্যের রহস্য বুঝতে পারে।
২. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দক্ষতাঃ
মেশিন বা কম্পিউটারকে মানুষের মতো বুদ্ধিমান করে তোলার নামই হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। এটি আমাদের কঠিন সব কাজকে খুব সহজ ও দ্রুত করে দেয়। আপনি যদি এআই ব্যবহার করতে জানেন, তবে আপনি অন্যদের চেয়ে অনেক তাড়াতাড়ি নিজের সব কাজ শেষ করতে পারবেন। আগামীর পৃথিবীতে যারা এই বুদ্ধিমান মেশিন চালাতে জানবে, তারাই সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবে।
৩. ডিজিটাল কমিউনিকেশন স্কিলঃ
ইন্টারনেট ব্যবহার করে সুন্দরভাবে অন্যদের সাথে যোগাযোগ করা এবং নিজের কথা বুঝিয়ে বলার নামই হলো ডিজিটাল কমিউনিকেশন। এটি শুধু মেসেজ পাঠানো নয়, বরং ইন্টারনেটে সবার সামনে নিজেকে সঠিকভাবে তুলে ধরার একটি কৌশল। বর্তমান যুগে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের মানুষের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য এই কাজটি শেখা আমাদের জন্য খুবই জরুরি।
৪. সাইবার সিকিউরিটিঃ
ইন্টারনেটে আমাদের অনেক দরকারি তথ্য এবং ছবি থাকে, সেগুলো চোর বা হ্যাকারদের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখাই হলো সাইবার সিকিউরিটি। আমাদের ডিজিটাল ঘরকে পাহারা দেওয়ার জন্য এই কাজটি শিখতে হয়। পৃথিবী যত বেশি ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করবে, এই কাজের গুরুত্ব তত বেশি বাড়বে। নিজের এবং অন্যদের তথ্য নিরাপদ রাখার এই বিদ্যাটি সত্যিই খুব চমৎকার।
৫. সমস্যা সমাধান দক্ষতাঃ
যেকোনো কঠিন কাজ দেখে ভয় না পেয়ে বুদ্ধি খাটিয়ে তা সমাধান করার নামই হলো সমস্যা সমাধান দক্ষতা। এটি আমাদের শেখায় কীভাবে লজিক বা যুক্তি দিয়ে ধাপে ধাপে একটি মুশকিল আসান করা যায়। এই গুণটি থাকলে আপনি যেকোনো জায়গায় ভালো করতে পারবেন। নতুন কিছু আবিষ্কার করতে হলে এই দক্ষতাটি সবার আগে থাকা প্রয়োজন, যা আপনাকে বুদ্ধিমান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ছোটবেলা থেকে এই বিষয় গুলো নিয়ে চর্চা করে, তাদের পড়াশোনা এবং কাজ অনেক বেশি সহজ হয়ে যায়। কারণ এই কাজ গুলো শুধু টেকনিক্যাল জ্ঞান দেয় না, বরং আমাদের মাথা খাটিয়ে চিন্তা করতে শেখায়। যখন কেউ কোনো সমস্যা নিয়ে কাজ করে, তখন সে বুঝতে পারে যে একটি কাজ করলে তার ফলাফল কী হতে পারে। এই ধরণের চিন্তাভাবনা আমাদের বড় বড় অংক বা বিজ্ঞানের বিষয় বুঝতে অনেক বেশি সাহায্য করে। তাই ভবিষ্যতের চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা সম্পর্কে আমাদের এখন থেকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
বাংলাদেশে চাহিদাসম্পন্ন স্কিল নিয়ে বর্তমানে আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অনেক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আগে মানুষ ভাবত শুধু অফিস গেলেই কাজ করা যায়, কিন্তু এখন ইন্টারনেটের কল্যাণে ঘরে বসেই বিদেশের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। এখনকার সময়ে বড় বড় কোম্পানি গুলো শুধু সার্টিফিকেট দেখে না, বরং আপনি কী কাজ জানেন সেটাই বেশি দেখে। বিশেষ করে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডাটা এনালাইসিস এবং ইন্টারনেট মার্কেটিংয়ের মতো কাজ গুলোর চাহিদা এখন অনেক বেশি।
আমাদের দেশের তরুণরা এখন সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করছে। তাই বাংলাদেশের স্থানীয় দোকান বা কোম্পানি গুলোও এখন দক্ষ মানুষ খুঁজছে যাতে তারা আরও ভালো সেবা দিতে পারে। আমাদের দেশ এখন ডিজিটাল হচ্ছে তাই ছোট-বড় সব কাজেই ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ছে। অভিভাবকরা যদি তাদের সন্তানদের শুধু পরীক্ষার নম্বরের পেছনে না ছুটিয়ে এই কাজ গুলো শেখান, তবে তারা অনেক ভালো করবে। কারণ আগামীর দিন হবে বুদ্ধির আর কাজের দিন।
এছাড়া বাংলাদেশে চাহিদাসম্পন্ন স্কিল শেখার জন্য এখন অনেক ভালো ভালো জায়গা তৈরি হয়েছে। ইউটিউব বা বিভিন্ন অনলাইন কোর্স থেকে ঘরে বসেই এই বিষয় গুলো এখন পানির মতো সহজ করে শেখা যায়। ধৈর্য ধরে কেউ যদি এই কাজ গুলো শেখে, তবে সে শুধু নিজের জীবন নয়, বরং দেশের উন্নয়নও করতে পারবে। আমাদের দেশের সোনামণিরাও একদিন এই আধুনিক কাজে দক্ষ হয়ে সারা পৃথিবীকে অবাক করে দিতে পারবে।
ডেটা অ্যানালিটিক্স স্কিল এর গুরুত্ব বর্তমান এই তথ্যের যুগে খুবই বেশি। প্রতিদিন ইন্টারনেটে অনেক অনেক তথ্য জমা হয়, আর সেই তথ্য থেকে ভালো কিছু বের করে আনাই হলো এই কাজের মূল লক্ষ্য। আপনি যখন এই কাজটি জানবেন, তখন আপনি অগোছালো সব তথ্যের ভেতর থেকে চমৎকার সব উপায় খুঁজে বের করতে পারবেন। এই কাজটি এখন ব্যাংক, হাসপাতাল এবং বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনেক বেশি দরকার হচ্ছে।
আমরা যখন ইন্টারনেটে কোনো কিছু খুঁজি, তখন আমাদের পছন্দের জিনিস গুলোই বারবার সামনে আসে। এটি কিন্তু জাদুর মতো এমনিতে হয় না, এর পেছনে ডেটা অ্যানালিটিক্স কাজ করে। যারা এই সেক্টরে বড় হতে চান, তাদের জন্য সংখ্যা আর তথ্যের রহস্য বোঝা খুব জরুরি। এই দক্ষতাটি আপনাকে অনেক বুদ্ধিমান করে তুলবে এবং আপনার চাকরি বা ক্যারিয়ারকে অনেক মজবুত ও সম্মানজনক করতে সাহায্য করবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দক্ষতা হলো আগামী দিনের সবচেয়ে বড় শক্তি। এখন আমরা এমন অনেক কম্পিউটার দেখছি যেগুলো মানুষের মতো কথা বলতে বা ছবি আঁকতে পারে। এই প্রযুক্তিকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে না জানলে ভবিষ্যতে পিছিয়ে পড়ার ভয় থাকে। এআই মানে শুধু রোবট নয়, বরং এটি হলো একটি সিস্টেম যা আমাদের সময় বাঁচায় এবং কোনো ভুল ছাড়াই কাজ শেষ করতে পারে। যারা এআই চালাতে জানবে, তারা অন্য মানুষের চেয়ে অনেক গুচ্ছ কাজ অনেক কম সময়ে করে ফেলবে।
ভবিষ্যতে অনেক সাধারণ কাজ যখন মেশিন দিয়ে হবে, তখন সেই মেশিন গুলোকে পাহারা দেওয়ার জন্য আমাদের মতো মানুষের দরকার হবে। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার যদি আপনি জানেন, তবে আপনি সব জায়গায় নিজের গুরুত্ব বাড়াতে পারবেন। আমাদের উচিত শিশুদের ছোটবেলা থেকেই এগুলো জানানো যাতে তারা বড় হয়ে প্রযুক্তির শুধু দাস না হয়, বরং তারা প্রযুক্তিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। আগামীর সব বাধা দূর করতে এই এআই দক্ষতা হবে আমাদের প্রধান অস্ত্র।
এডু ওয়েব আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়। ;
comment url