অনলাইন টিন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করার নিয়ম

অনলাইন টিন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করার নিয়ম জানা এখন প্রতিটি সচেতন নাগরিকের জন্যই প্রয়োজন। টিন সার্টিফিকেট বা ট্যাক্স পেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বাংলাদেশে ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের আয় কর দাতা হিসেবে আইন গত পরিচয়।

অনলাইন-টিন-সার্টিফিকেটের-জন্য-আবেদন-করার-নিয়ম

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে প্রতিটি সম্ভাব্য এই নিয়মের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বিস্তারিত ভাবে জানাবো, কিভাবে আপনি ঘরে বসে সহজেই এবং দ্রুত আপনার টিন সার্টিফিকেট এর জন্য আবেদন করতে পারেন এবং সংগ্রহ করতে পারেন।

পেজ সূচিপত্রঃ অনলাইন টিন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করার নিয়ম

অনলাইন টিন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করার নিয়ম

অনলাইন টিন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করার নিয়ম সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রায় এখন অনেকেই প্রকাশ করে থাকেন। আপনি কি একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে জমির দলিল রেজিস্ট্রেশন করতে বা বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়ায় আটকে রয়েছেন। শুধুমাত্র টিন সার্টিফিকেট না থাকার কারণে অথবা আপনি কি একজন উদ্যোক্তা বা পেশাজীবী। যার একটি বৈধ করদাতা আইডি প্রয়োজন। চিন্তার কোন কারণ নেই। এখন থেকে অনলাইনে আপনি টিন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে পারবেন আপনার ঘরে বসে এক কাপ চায়ের সময়ের মধ্যেই। 

টিন সার্টিফিকেট আবেদন করার জন্য আপনাকে প্রথমে আপনার গুগল ওয়েব সার্চ এ গিয়ে সার্চ দিতে হবে টিন সার্টিফিকেট লিখে।

টিন সার্টিফিকেট গুগলে লিখে সার্চ দেওয়ার পর আপনার সামনে অনেক ইন্টারফেস আসবে। এর মধ্যে আপনি ইনকাম ট্যাক্স ডট গভ ডট বিডি এই লিংকে ক্লিক করবেন।

আপনি ইনকাম ট্যাক্স ডট গভ ডট বিডিতে ক্লিক করার পর আপনার সামনে একটি ইন্টারফেস আসবে যেখানে লগইন এবং রেজিস্টার এরকম অনেক বাটন থাকবে। এর মধ্যে আপনি রেজিস্টার বাটনে ক্লিক করবেন।

রেজিস্টার বাটন এ ক্লিক করার পর আপনার সামনে একটি ইন্টারফেস আসবে। যেখানে আপনার ব্যক্তিগত সব তথ্য দিয়ে সেগুলো ফিলাপ করতে হবে। টিন সার্টিফিকেটের জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্য আপনাকে দিতে হবে। এরপর রেজিস্টার বাটনে ক্লিক করলে আপনি সহজে টিন সার্টিফিকেটটি তৈরি করতে পারবেন।

পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারেন তিনবার ট্যাক্সপিয়ার আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি অপরিহার্য আইনি পরিচয় পত্র। যা শুধু কর দাতাই নয়, যে কোন বড় আর্থিক লেনদেনের জন্য আবশ্যক আবেদনের আগে আপনার হাতে নিন। এই জিনিসগুলো আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র এটির সক্রিয় মোবাইল নম্বর। একটি বৈধ ইমেইল ঠিকানা এবং আপনার পেশা ও আনুমানিক বার্ষিক আয় এর তথ্য পিতা মাতার নাম ঠিকানা সহ আপনার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা প্রস্তুত রাখুন। 

আরো পড়ুনঃ এনআইডি সার্ভার ডাউন থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার বিকল্প উপায়

আপনার যদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য টিন দরকার হয়। তাহলে প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন সনদ রাখতে হবে। অনলাইনে এই ডিজিটাল সেবাটি ব্যবহার করে। আপনি অতি সহজেই একটি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় পেয়ে যাবেন। যা আপনার নাগরিক ও আর্থিক জীবনকে করবে আরো গতিশীল। সময় নষ্ট না করে আজই শুরু করুন আপনার আবেদন প্রক্রিয়া।

টিন সার্টিফিকেট কি এবং কেন অপরিহার্য 

অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট আবেদন করার নিয়ম বুঝতে গেলে প্রথমে আপনাকে জানতে হবে টিন সার্টিফিকেট আসলে কি এবং কেন এটি আপনার জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ। টিন নাম্বার ট্যাক্সপায়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর হচ্ছে ১২ ডিজিট এর একটি স্বতন্ত্র সংখ্যা। যা বাংলাদেশ কর কর্তৃপক্ষ প্রতিটি কর দাতাকে প্রদান করে। 

এটি আপনার আর্থিক লেনদেন এবং কর সংক্রান্ত সকল কার্যক্রমকে ট্রাক করে এবং সরকারের রাজস্ব সংগ্রহের স্বচ্ছতা আনে। এটি কেবল কর দাদাদের জন্যই নয়, যাদের বার্ষিক আয় করযোগ্য হারের নিচে থাকে তারাও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কাজে এই সার্টিফিকেটটি ব্যবহার করে থাকেন। টিন ছাড়া আপনি একটি বড় অংকের ফাইন্যান্সিয়াল ট্রানজেকশন করতে পারবেন না। 

যেমন ৫ লক্ষ টাকার স্পষ্ট কেনাকাটা রেজিস্ট্রেশন ৩ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের মোটরসাইকেল বা গাড়ি রেজিস্ট্রেশন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ইত্যাদি কাজের টিন বাধ্যতামূলক। এমনকি উচ্চ শিক্ষা বা চাকরির জন্য বিদেশে ভিসা আবেদনের সময়ও অনেক দেশ টিন সার্টিফিকেট চেয়ে থাকে। তাই অনলাইনে এই আবেদন করার নিয়ম রপ্ত করার শুধু একটি প্রক্রিয়ায় নয়, বরং আধুনিক জীবন ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য দক্ষতা।

আবেদনের পূর্ব প্রস্তুতি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য 

অনলাইন টিন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করার নিয়ম অনুসরণ করার আগে আপনাকে কিছু জরুরী কাগজপত্র এবং তথ্য প্রস্তুত করতে হবে। সঠিক প্রস্তুতি পারে আপনার আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুততম করতে। সর্বপ্রথম আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হবে। আপনার এনআইডি কার্ডটি হাতের কাছে রাখুন। কারণ এর নম্বর ও আপনার ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইন ফর্মে দিতে হবে। যদি আপনার পেশাদার টিন সার্টিফিকেট দরকার হয়ে থাকে। তাহলে সংশ্লিষ্ট পেশার সনদ বা সার্টিফিকেটের কপি প্রয়োজন হতে পারে। 

আপনার একটি বৈধ ইমেইল ঠিকানা এবং সক্রিয় মোবাইল নাম্বার প্রস্তুত রাখতে হবে। এই ইমেইল ও মোবাইল নম্বরটি পরবর্তী সকল যোগাযোগ পরিমাণ জানা থাকতে হবে। যদি আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের হয়ে আবেদন করেন, তাহলে প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স মেমোরেন্ডাম এন্ড আর্টিকেলস অফ এসোসিয়েশন এবং চেয়ারম্যান এম ডি এর এনআইডির কপি লাগবে। এই কাগজপত্র গুলো পাশে রাখলেই আপনি বিরক্তিকর বিরোতি গুলো এড়িয়ে যেতে পারবেন। 

এস ও এস পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া 

অনলাইনে আবেদন করার জন্য ধাপ শুরু হয় বাংলাদেশ কর কর্তৃপক্ষের অনলাইন পোর্টাল বা এস ও এস এ ওয়েবসাইটে গিয়ে। প্রথমবার ব্যবহারকারীদেরকে এই পোর্টালে রেজিস্টার্ড ব্যবহারকারী হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে। ওয়েবসাইটের হোমপেজ রেজিস্ট্রেশন বা রেজিস্টার অপশনে ক্লিক করুন। আপনাকে একটি ফর্ম পূরণ করতে বলা হবে। যেখানে আপনার নাম এন আই ডি নম্বর মোবাইল নম্বর ইমেইল ঠিকানা এবং একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিতে হবে। 

অনলাইন-টিন-সার্টিফিকেটের-জন্য-আবেদন-করার-নিয়ম

রেজিস্ট্রেশনের সময় প্রধানমন্ত্রী এবং সাবমিট বাটনে ক্লিক করলে আপনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবে। রেজিস্ট্রেশনের পর আপনাকে একটি ইউজার আইডি আপনার ইমেইল অথবা ইমেইল নম্বর এবং আপনার তৈরি করা পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। এই ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ডই ভবিষ্যতে আপনার টিন সংশ্লিষ্ট সকল সেবা গ্রহণের চাবিকাঠি হবে। ধাপটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারলেই পরবর্তী ধাপগুলো সহজ ভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

অনলাইন আবেদন ফরম পূরণের বিস্তারিত নির্দেশনা 

অনলাইনে একটি টিন সার্টিফিকেট এর আবেদন করার নিয়ম এর কেন্দ্রীয় অংশ হলো ৩১ ফরমটি সঠিকভাবে পূরণ করা। এস ও এস পোর্টালে লগইন করার পর টিন রেজিস্ট্রেশন বাট টিম নিবন্ধন মেনুতে ক্লিক করুন সেখানে ৩১ ব্যক্তি অথবা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ফর্মটি নির্বাচন করুন। একটি ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া যেখানে আপনাকে বিভিন্ন সেকশনে বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে এবং সেগুলো আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় তথ্য হতে পারে। প্রথম সেকশনে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য নম্বর নাম পিতার নাম মাতার নাম জন্ম তারিখ ইত্যাদি। 

খুব সতর্কতার সাথে বসাতে হবে। এন আইডির তথ্যের সাথে সামান্য অমিল হলেও আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। দ্বিতীয় সেকশনে আপনার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা সঠিক পোস্টাল কোড সহ দিতে হবে। তৃতীয় সেকশনে আপনার পেশা এবং আয়ের উৎস নির্বাচন করতে হবে। পেজ সেভ এন্ড নেক্সট বাটনে ক্লিক করে আগতে থাকুন। অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট আবেদন করার সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে এই ফরম পূরণে নির্ভুলতা উপর।

প্রমাণিত আইডেন্টিটি ও ঠিকানা আপলোড 

অনলাইন টিন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করার নিয়ম এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে হলো আপনার পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় নথির স্ক্যান কপি আপলোড করা। ফরম পূরণের শেষ ধাপে আপনাকে আপলোড ডকুমেন্ট অপশনে যেতে হবে। এখানে সাধারণত দুটি প্রধান নথি আপলোডের অপশন থাকে। জাতীয় পরিচয় পত্র বা জন্ম নিবন্ধনের কপি এবং বর্তমান ঠিকানার প্রমাণপত্র। 

আরো পড়ুনঃ বিদ্যুৎ বিল ডুপ্লিকেট হলে রিফান্ড পাওয়ার নিয়ম

ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে আপনি আপনার ইউটিলিটি বিল টেলিফোন বিল বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্টের স্ক্যান কপি আপলোড করতে পারেন। নথি গুলোর স্ক্যান কপি বা স্পষ্ট ফটো জেপিইজি বা পিডিএফ ফরমেটে এবং নির্দিষ্ট সাইজের মধ্যে হবে। নথি গুলো পরিষ্কার ও পার্কে যোগ্য কিনা তার নিশ্চিত করুন। অন্যথায় আবেদন বাতিল হতে পারে। আপনি অনলাইনে সঠিক নিয়ম গুলো মেনে এই ডকুমেন্টস আপলোড শেষে ফর্মটি চূড়ান্তভাবে পরীক্ষা করে সাবমিট করতে হবে। 

আবেদন জমা দেওয়া ও আবেদন নম্বর সংগ্রহ 

সমস্ত তথ্য ও নথি সঠিকভাবে দেয়ার পর এবং সবকিছু চেক করে নেওয়ার পর সার্টিফিকেট আবেদন করার ভর্তি ধাপ হল আবেদনটি চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়া। ফরমের শেষ পৃষ্ঠায় একটি রিভিউ বা সামারি দেখানো হবে। যেখানে আপনি আপনার দেয়া সব তথ্য আরেকবার যাচাই করে দেখতে পারবেন। কোন ভুল থাকলে এডিট অপশনে ক্লিক করে তার সংশোধন করুন। সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন। সাবমিট করার সঙ্গে সঙ্গেই পর্দায় একটি পৃষ্ঠা আসবে। যেখানে লেখা থাকবে আপনার আবেদন সফলভাবে জমা হয়েছে। 

অনলাইন-টিন-সার্টিফিকেটের-জন্য-আবেদন-করার-নিয়ম

এই পৃষ্ঠায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৫ ডিজিট এর আবেদন নম্বর দেখতে পাবেন। এই নম্বরটি অবশ্যই সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। এটি আপনাকে প্রিন্ট আউট করে নিতে বলাও হতে পারে। অথবা স্ক্রিনশট নিয়ে রাখতে পারেন। এই আবেদন নম্বর দিয়েই আপনি পরে আপনার আবেদনের স্ট্যাটাস ট্র্যাক করবেন এবং টিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করবেন। এই ধাপে এই নম্বরটি না রাখলে পরবর্তীতে কোন ধাপে গিয়ে  সমস্যায় পড়তে পারেন।

আবেদনের স্ট্যাটাস ট্রাকিং ও অ্যাপ্রুভাল প্রক্রিয়া 

অনলাইন টিন সার্টিফিকেট আবেদন করার নিয়ম অনুযায়ী আবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী কাজ হল তার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা। আপনার আবেদনটি এখন কর্তৃপক্ষের যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া দিন। এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত ৭ থেকে ১৫ কার্যদিবস সময় নিতে পারে। আপনি নিয়মিতভাবে ওয়েবসাইটে গিয়ে ট্রাক অ্যাপ্লিকেশন স্ট্যাটাস বা আবেদনের অবস্থা পরীক্ষা করুন। অপশনে ক্লিক করে আপনার সংরক্ষিত ১৫ ডিজিট এর আবেদন নম্বরটি প্রবেশ করালে, বর্তমান অবস্থা জানাতে পারবেন। 

স্ট্যাটাস সাধারণত আবেদন জমা হয়েছে। পর্যালোচনা জারি করা হয়েছে বা অনুমোদিত এরকম দেখাবে। অনেক সময় অতিরিক্ত তথ্য বা নথির প্রয়োজন হলে তারা আপনার ইমেইলে বা এসএমএস এর মাধ্যমে একটি নোটিশ পাঠাবে। সে ক্ষেত্রে নির্দেশনা অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্য জমা দিতে হবে। যদি সবকিছু ঠিক থাকে তাহলে আপনি অনুমোদিত স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন। নম্বর পেতে পারেন। এই পর্যায়ে অনেক ধৈর্য ধারণ করা জরুরী। কারণ এটি একটি সরকারি যাচাই প্রক্রিয়া।

টিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড ও প্রিন্ট করার পদ্ধতি  

আপনার আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পরেই অনলাইন টিম সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করার নিয়ম এর চূড়ান্ত ও আনন্দের ধাপটি শুরু হয়। স্ট্যাটাস অনুমোদিত হলে আপনি এস ও এস পোর্টালে আপনার প্রোফাইলে লগইন করলে ডাউনলোড সার্টিফিকেট বা প্রিন্ট সার্টিফিকেট এর মত একটি অপশন পাবেন। এই অপশন এ ক্লিক করলে আপনার ১২ ডিজিটের টিন নম্বর সহ একটি অফিসিয়াল ট্রেন্ড সার্টিফিকেট পিডিএফ ফরমেটে ওপেন হবে। এই সার্টিফিকেটে আপনার নাম পিতার নাম ঠিকানা টিন নম্বর এবং একটি অনন্য কিউ আর কোড থাকবে। 

আরো পড়ুনঃ রেল সেবা ই-টিকিট অ্যাপে User login is failed সমস্যার সমাধান

এই পিডিএফ ফাইলটি আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলে সেভ করে নিন। এরপর একটি রঙিন বা সাদা কালো এটি প্রিন্ট করে নিন। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এই প্রিন্টকৃত কপিটি করার সময় সংশ্লিষ্টকর অফিস থেকে সত্যায়িত করিয়ে নেওয়া উচিত। তবে এখন বেশিরভাগ ডিজিটাল সিস্টেমেই সরাসরি অনলাইন ভেরিফিকেশন এর সুবিধা আছে। এই ডাউনলোডকৃত সার্টিফিকেটটি আপনার করদাতা পরিচয়ের আইনগত প্রমাণপত্র।

শেষ কথাঃ অনলাইন টিন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করার নিয়ম 

অনলাইন টিন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করার নিয়ম নিয়ে এই গভীর আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে এই প্রক্রিয়াটি আগে যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অত্যন্ত সহজলভ্য স্বচ্ছ ও সময় সাপেক্ষ। আমরা দেখেছি কিভাবে শুধুমাত্র একটি স্মার্টফোন বা কম্পিউটার আর ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই বাংলাদেশ কর কর্তৃপক্ষের এসওএস পোর্টালে গিয়ে, রেজিস্ট্রেশন করে, আপনার সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করে এবং প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করে খুব সহজেই আপনার টিন সার্টিফিকেট এর জন্য আবেদন করতে পারেন।  

মনে রাখবেন টিন সার্টিফিকেট শুধু কর দাতাদের জন্যই নয়, এটি আধুনিক আর্থিক লেনদেন ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কাজের একটি অপরিহার্য দলিল। অনলাইনে এ আবেদন করার নিয়ম আয়ত্ত করে আপনি শুধু একটি সার্টিফিকেটই অর্জন করছেন না। বরং ডিজিটাল বাংলাদেশের একজন সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাই আর দেরি না করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে নিয়ে অনলাইনে আপনার টিন নিবন্ধনের যাত্রা শুরু করুন এবং আপনার আর্থিক পরিচয় কে পূর্ণতা দিন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এডু ওয়েব আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়। ;

comment url

MD. Mukta
MD.Mukta
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও এডু ওয়েব আইটি-এর অ্যাডমিন তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি ক্লায়েন্টদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।