মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট হঠাৎ ব্লক হলে আনব্লক প্রসেস

 

মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট হঠাৎ ব্লক হলে আনব্লক প্রসেস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে আপনি খুবই দ্রুতই সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারবেন। একাউন্ট ব্লক হওয়ার পেছনে যেমন অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে, ঠিক তেমনি এর সমাধানও রয়েছে।

মোবাইল-ব্যাংকিং-একাউন্ট-হঠাৎ-ব্লক-হলে-আনব্লক-প্রসেস

আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাকে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্লক হলে আনব্লক করার সকল প্রসেসের প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে বুঝতে সাহায্য করবে। শুরু হবে কারণ চিহ্নিতকরণ থেকে শেষ হবে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের সর্তকতা মূলক ব্যবস্থা নিয়ে।

পেজ সূচিপত্রঃ মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট হঠাৎ ব্লক হলে আনব্লক প্রসেস

মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট হঠাৎ ব্লক হলে আনব্লক প্রসেস

মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট হঠাৎ ব্লক হলে আনব্লক প্রসেস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে আপনি খুব সহজেই এবং দ্রুত এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন. আপনি হঠাৎ করে দেখলেন আপনার বিকাশ, নগদ, রকেট বা অন্য কোন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপে লগইন করা যাচ্ছে না। বারবার একটি ইরোর মেসেজ দেখাচ্ছে। আপনার অ্যাকাউন্ট টেম্পোরারি ব্লক বা এই সার্ভিসটি বর্তমানে বন্ধ আছে। সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ে গেল একাউন্টে জমে থাকা টাকার কথা। আর মাথায় ঘুরপাক খেতে শুরু করে এর সমাধান কিভাবে করবেন। কিন্তু চিন্তার কোন বিষয় নেই। 

এই সম্পর্কে আপনার স্পষ্ট ধারণা থাকলে আপনি খুব সহজেই মুক্তি পাবেন। এই সমস্যা থেকে আসুন জেনে নেওয়া যাক। এই সময় কি করতে হবে। প্রথমেই বুঝতে হবে কেন ব্লক হল। সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো হল তিন থেকে পাঁচ বার ভুল পিন বা পাসওয়ার্ড দিলে অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে যায়। অস্বাভাবিক লেনদেন প্যাটার্ন ব্যবহার করলে অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে যায়। দীর্ঘ দিন অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় থাকলে অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে যায়। সন্দেহজনক লেনদেন বা রেজিস্ট্রেশন তথ্য হালনাগাদ না করা। কারণ জানা থাকলে সমাধানের পথ স্পষ্ট হয়। 

আরো পড়ুনঃ বিদ্যুৎ বিল ডুপ্লিকেট হলে রিফান্ড পাওয়ার নিয়ম

যখন আপনি দেখবেন আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে গিয়েছে, তখন প্রথমেই সংশ্লিষ্ট সেবার গ্রাহক সেবা হট লাইনে ফোন করুন। বিকাশের জন্য ডায়াল করুন ১৬২৪৭ নগদের জন্য ১৬১১০ আপনার রেজিস্ট্রেশনকৃত নম্বর থেকে কল করুন। কাস্টমার কেয়ারের সমস্যার কথা খুলে বলুন তারা কিছু নিরাপত্তা প্রশ্নও জিজ্ঞাসা করলে সঠিকভাবে উত্তর দিন। অনেক ক্ষেত্রেই তারা ফোনে থাকা অবস্থায় আপনার অ্যাকাউন্ট আনব্লক করে দিতে পারেন বা গাইড লাইন দিতে পারেন। 

অ্যাকাউন্ট ব্লক হওয়ার সাধারণ কারণ সমূহ 

আপনার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্লক হলে আনব্লক প্রসেস শুরু করার আগে জেনে নেওয়া খুবই জরুরী যে, কেন আপনার একাউন্টে ব্লক হলো। কারণ জানা গেলে সমাধানের পথ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সবচেয়ে সাধারণ কারণ গুলোর মধ্যে প্রথমে আসে পিন বা পাসওয়ার্ড ভুল প্রবেশের ব্যাপারটি। অনেক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা জনিত কারণে টানা তিন থেকে পাঁচ বার ভুল পিন বা পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর সংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্টে সাময়িকভাবে লগ বা ব্লক করে দেয়। দ্বিতীয় একটি প্রধান কারণ হলো অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লেনদেন। 

প্যাটার্ন যদি হঠাৎ করে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি অংকের টাকা লেনদেন করেন বা একদিনে অস্বাভাবিক সংখ্যক ট্রানজেকশন করেন। তাহলে জালিয়াতের সম্ভাবনা হিসেবে চিহ্নিত করে একাউন্ট ব্লক করতে পারে। রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল নম্বরটি যদি কোন কারনে ডিএক্টিভেট হয়ে যায়, বা সিম কার্ড পরিবর্তন করে নতুন নম্বর নেওয়ার পর ব্যাংক তথ্য হালনাগাদ না করেন। তাহলেও সমস্যা হতে পারে। 

এছাড়া দীর্ঘদিন অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় রাখা অর্থাৎ কোন লেনদেন না করা সন্দেহজনক। কোন উৎস থেকে টাকা প্রেরণ বা গ্রহণ করা বা ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোন নোটিশ না মানার কারণেও মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট হঠাৎ করে ব্লগ হয়ে যেতে পারে। অ্যাকাউন্ট ব্লকের কারণটি নিজেই বুঝতে পারলে, পরবর্তী আনব্লক প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি মসৃণ হবে। 

আতঙ্কিত না হয়ে যা করণীয় এবং প্রথম প্রতিক্রিয়া 

মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট ব্লক হলে আনব্লক প্রসেসের প্রথম ধাপ হল ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত গ্রহন করা। আপনি দেখলেন অ্যাকাউন্ট ব্লক সাথে সাথে আতঙ্কিত হয়ে বারবার লগইন চেষ্টা করা বন্ধ করুন। কারণ অনেক ক্ষেত্রে এই বারবার চেষ্টা করার সমস্যা কে আরো জটিল করে তুলতে পারে। প্রথমে আপনার ইন্টারনেট সংযোগটি পরীক্ষা করুন। দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণেও অনেক সময় সঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে। এরপর মোবাইল অ্যাপটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে আবার চালু করুন। তারপরও যদি সমস্যা থাকে তাহলে অ্যাপটির ক্যাশে মেমোরি ক্লিয়ার করে দেখতে পারেন। 

অনেক সময় অ্যাপের ভুল বা পুরনো ক্যাশ লগইন ইস্যু তৈরি হয়। নিজেকে প্রস্তুত করা আপনার  রেজিস্ট্রেশন পত্রের নাম্বার এবং একাউন্ট খোলার সময় আর তথ্য কোন কারণ পরবর্তী ধাপগুলোতে এই বার দরকার পড়বে। মনে রাখবেন মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট আনব্লক প্রসেস শুরু করার এপিসোড মূলক ধাপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যা আপনাকে অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট করা থেকে রক্ষা করবে।

গ্রাহক সেবা হট লাইনে যোগাযোগ করুন 

মোবাইল ব্যাংকিং আনব্লক প্রসেসের সবচেয়ে দ্রুত এবং সহজলভ্য মাধ্যম হলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস এর গ্রাহক সেবা, হট লাইনে যোগাযোগ করা। প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই একটি নির্দিষ্ট হটলাইন নম্বর রয়েছে। যেমন বিকাশের জন্য রয়েছে ১৬২৪৭ নগদের জন্য ১৬১১০ রকেটের জন্য ১৬৭৮৯ ইত্যাদি। এই নম্বরে ফোন করে আপনি সরাসরি একজন কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধির সাথে কথা বলতে পারবেন। 

তাদের কাছে আপনার সমস্যার বিস্তারিত বর্ণনা দিন। তারা তাদের সিস্টেমে আপনার অ্যাকাউন্ট চেক করে ব্লক হওয়ার কারণ এবং আনব্লক করার পদ্ধতি বলে দিতে পারবেন। হট লাইনে কল করার সময় আপনার রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল নম্বর থেকে কল করাই উত্তম হবে। এটি আপনার পরিচয় যাচাইয়ের সাহায্য করে থাকে। কাস্টমার কেয়ার আপনাকে কিছু নিরাপত্তা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারে।

মোবাইল-ব্যাংকিং-একাউন্ট-হঠাৎ-ব্লক-হলে-আনব্লক-প্রসেস

যেমন আপনার জন্ম তারিখ, মাসের নাম, শেষ লেনদেনের পরিমাণ ইত্যাদি। সঠিক তথ্য প্রদান করলে অনেক ক্ষেত্রে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ফোনে থেকেই আপনার অ্যাকাউন্ট আনব্লক করে দিতে পারেন। অথবা আনব্লক করার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট আনব্লক প্রসেস প্রায়ই খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়। তাই এটি প্রথম চেষ্টায় যাবে শরবতকৃষ্ট পন্থা। 

সরাসরি ব্যাংক বা এজেন্ট পয়েন্টে যোগাযোগ 

মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট ব্লক হলে আনব্লক প্রসেসের আরেকটি অত্যন্ত কার্যকরী পদ্ধতি হল সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা। অথবা মোবাইল ফিন্যান্স সার্ভিসে অথরাইজড এজেন্ট পয়েন্টে যোগাযোগ করা। হট লাইনের সমাধান না হলে বা আপনার সমস্যাটি জটিল মনে হলে, এটি করা উচিত। ব্যাংক শাখায় গিয়ে গ্রাহক সেবা আপনার সমস্যার কথা বলুন। তাদের কাছে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের আসল কপি এবং কয়েকটি ফটোকপি নিয়ে যাবেন। 

একাউন্ট ব্লকের কারণ এবং আনলক ফ্রম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন। এজেন্ট পয়েন্টে ও একইভাবে আপনি সাহায্য পেতে পারেন। বিশেষ করে যদি আপনি মোবাইল ফিনান্স সার্ভিস ব্যবহার করেন, তবে খেয়াল রাখবেন। শুধুমাত্র অফিসিয়াল ও বিশ্বস্ত এজেন্ট এর কাছে যাবেন। তারা আপনাকে আনব্লক এর জন্য আবেদন ফরম দিতে পারেন এবং আপনার তথ্য যাচাই করে অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে পারেন। 

এই পদ্ধতিতে আপনাকে কিছু ফর্ম পূরণ করতে হতে পারে এবং প্রক্রিয়াটির সম্পূর্ণ হতে এক থেকে তিন কর্ম দিবস সময়ে রাখতে পারে। সরাসরি যোগাযোগের সুবিধা হল আপনি একজন মানুষকে সামনে পাচ্ছেন এবং প্রয়োজন। এই ধাপে আপনার সকল মূল কাগজপত্র হাতে নিয়ে যাওয়াটা সফলতার জন্য অপরিহার্য।

আনব্লক ফরম পূরণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র 

মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট হঠাৎ ব্লক হলে আনব্লক প্রসেস এর আনুষ্ঠানিক ধাপ হল আনব্লক করার জন্য আবেদন ফরম পূরণ করা। আপনি যখন সরাসরি ব্যাংক শাখা বা সার্ভিস সেন্টারে যাবেন, তারা আপনাকে একটি একাউন্ট আনব্লক রিকোয়েস্ট ফ্রম বা অনুরূপ ফ্রম দিবে। এই ফর্মটি সতর্কতার সাথে পূরণ করতে হবে। 

সাধারণত এতে আপনার নাম, মোবাইল নম্বর, অ্যাকাউন্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর ব্লক হওয়ার তারিখ এবং আনব্লক যাওয়ার কারণ উল্লেখ করতে হবে। সব তথ্য বড় হাতের অক্ষরে স্পষ্টভাবে লিখুন। যাতে কোন দ্বিধা না থাকে। ফরম জমা দেওয়ার সময় আপনাকে কিছু জরুরী কাগজপত্রের ফটোকপি সংযুক্ত করে দিতে হবে। এই কাগজপত্র গুলোর মধ্যে প্রধান হল আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র বা পাসপোর্ট এর ফটোকপি। 

আরো পড়ুনঃ গ্রামে বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ বেশি আসা

একাউন্ট খোলার সময় রেজিস্ট্রেশন স্লিপ আপনার রেজিস্ট্রেশন কৃত মোবাইল নম্বরের সিম রেজিস্ট্রেশন সনদের কপি। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক আপনার কাছ থেকে একটি হালনাগাদ কেওয়াইসি ফরম পূরণ করতে বলতে পারে। আপনার অ্যাকাউন্ট আনব্লক প্রসেস সফল করার জন্য এই কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং নির্ভুল ভাবে ফরম পূরণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যাতে প্রক্রিয়ায় কোন ধীর গতি বা ভুল না থাকে। 

বায়োমেট্রিক্স যাচাইকরণ ও পূর্ণ নিবন্ধন 

মোবাইল ব্যাংকিং ব্লক হলে আনব্লক প্রসেসের একটি অত্যাধুনিক ও নিরাপদ ধাপ হলো বায়োমেট্রিক্স যাচাইকরণ। অনেক ব্যাংক এবং মোবাইল ফিনান্স সার্ভিস এখন গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক্স সিস্টেম চালু করেছে। যদি আপনার অ্যাকাউন্ট জটিল সন্দেহ বা নিরাপত্তা ইস্যুর জন্য ব্লক হয়ে থাকে, তাহলে কর্তৃপক্ষ আনব্লক করার আগে আপনার বায়োমেট্রিক্স যাচাই করতে চাইতে পারে। এতে করে তারা নিশ্চিত হতে পারেন যে আসল গ্রাহক আনব্লক চাইছেন। এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত সার্ভিস সেন্টার বা নির্দিষ্ট কিছু এজেন্ট পয়েন্টে সম্পন্ন হয়। 

মোবাইল-ব্যাংকিং-একাউন্ট-হঠাৎ-ব্লক-হলে-আনব্লক-প্রসেস

আপনাকে আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যান করতে দেওয়া হবে এবং তা জাতীয় ডাটাবেজের সাথে মিলিয়ে দেখা হবে। যদি সবকিছু মিলে আনব্লক প্রক্রিয়া দ্রুত এগোবে কিছু ক্ষেত্রে পুরোপুরি পূর্ণ নিবন্ধন এরও প্রয়োজন হতে পারে। এর মানে হলো পুরনো একাউন্টের সম্পূর্ণ বন্ধ করে আপনার একই তথ্য দিয়ে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে হতে পারে। এটা তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় নেয়। তবে যদি সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান। 

অ্যাকাউন্ট আনব্লক হওয়ার পর করনীয় 

মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট ব্লক হলে আনব্লক প্রসেস সফলভাবে শেষ হয়ে আপনার একাউন্ট পুনরায় চালু হওয়ার পর কিছু জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক যাতে ভবিষ্যতে আবার একই সমস্যায় পড়তে না হয়। প্রথমেই আপনার পিন বা পাসওয়ার্ডটি পরিবর্তন করুন। এটি শক্তিশালী, অনন্য এবং মনে রাখা সহজ করুন। যা অন্য কোন একাউন্টে ব্যবহার করবেন না। দ্বিতীয়ত অ্যাপটির  সব অনুমতি চেক করুন এবং অপ্রয়োজনীয় কোন অ্যাপের সাথে সংযোগ থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন। তৃতীয় তো আপনার অ্যাকাউন্টের লেনদেনের হিস্ট্রি ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। 

দেখুন ব্লক হওয়ার আগে কোন অস্বাভাবিক বা অনাকাঙ্ক্ষিত লেনদেন হয়েছে কিনা। যদি কিছু সন্দেহজনক দেখেন তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহক সেবা কে জানাণ। চতুর্থ তো আপনার রেজিস্ট্রেশন তথ্য বিশেষ করে মোবাইল নাম্বার এবং ইমেইল এড্রেস হালনাগাদ আছে কিনা নিশ্চিত করুন। মোবাইল ব্যাংকিং আনব্লক প্রসেস এর কষ্টকর অভিজ্ঞতার পর এই ছোট ছোট সতর্কতা গুলোই আপনাকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা দেবে।

জরুরি অবস্থায় বিকল্প লেনদেন পদ্ধতি 

মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট হঠাৎ ব্লক হলে আনব্লক প্রসেস চলাকালীন সময় তাতে আপনার আর্থিক লেনদেন স্থবির হয়ে পড়তে পারে। জরুরী প্রয়োজনে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে জন্য বিকল্প লেনদেনের পদ্ধতির সম্পর্কে জানা থাকা ভালো। প্রথম বিকল্প হতে পারে পরিবারের অন্য কোন সদস্যের মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট ব্যবহার করা। আপনি টাকা পাঠাতে বা বিল পরিশোধ করতে পারেন এবং পরে নগদ পরিশোধ করে দেবেন। 

দ্বিতীয় বিকল্প হলো সরাসরি ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করা। অনলাইন শপিং বা পয়েন্ট অফ সেল মেশিন এর কার্ড ব্যবহার করে আপনি জরুরী লেনদেন সেরে নিতে পারেন। তৃতীয়তঃ আপনি বিকাশ নগদ রকেটের এজেন্ট পয়েন্টে সরাসরি গিয়ে ক্যাশ আউট বা বিল পেমেন্টের সেবা নিতে পারেন। শুধুমাত্র আপনার ফোন নম্বর এবং কিছু নিরাপত্তা তথ্য ব্যবহার করে। 

আরো পড়ুনঃ এনআইডি সার্ভার ডাউন থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার বিকল্প উপায়

চতুর্থ বিকল্প হল অন্যান্য ডিজিটাল ওয়ালেট বা পেমেন্ট অ্যাপ। যদি আপনার সেখানে একাউন্ট থাকে। মনে রাখবেন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্লক হলে আনব্লক প্রসেস সম্পূর্ণ হতে কিছু সময় লাগতে পারে। তাই এই অস্থায়ী বিকল্পগুলো আপনার আর্থিক জীবনকে চলমান রাখতে সাহায্য করবে।

শেষ কথাঃ মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট হঠাৎ ব্লক হলে আনব্লক প্রসেস 

মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট হঠাৎ ব্লক হলে আনব্লক প্রসেস একটি বিব্রতকর কিন্তু সমাধানযোগ্য অভিজ্ঞতা। এই বিস্তারিত আলোচনা থেকে আমরা দেখেছি যে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ও পদ্ধতির সাথে এগোলে যে কোন গ্রাহকই নিজের একাউন্ট পুনরুদ্ধার করতে পারেন। মূল কথাটি হলো সচেতনতা ও প্রস্তুতি। একাউন্ট ব্লকের কারণ গুলো বোঝা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং গ্রাহক সেবার বিভিন্ন চ্যানেলের সঠিক ব্যবহার জানা। এই বিষয়গুলোই আপনাকে জটিলতা থেকে রক্ষা করবে। মনে রাখবেন এই প্রক্রিয়া কেবল আপনার টাকা ফেরত পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। 

কিভাবে ডিজিটাল যুগে আপনার আর্থিক নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করতে হয়। অ্যাকাউন্ট আনব্লক হওয়ার পরও সতর্কতা কখনোই ত্যাগ করবেন না। নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, আনঅফিসিয়াল অ্যাপ বা লিংক এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখার মত সহজ অভ্যাসগুলোই পারে ভবিষ্যতে এই সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে। আপনার অভিজ্ঞতা অন্যদের সাথে শেয়ার করুন। যাতে তারাও সচেতন হতে পারে। প্রযুক্তি  নির্ভর এই বিশ্বে জ্ঞানী আপনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এডু ওয়েব আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়। ;

comment url

MD. Mukta
MD.Mukta
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও এডু ওয়েব আইটি-এর অ্যাডমিন তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি ক্লায়েন্টদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।