ফ্রিল্যান্সিং শিখেও কাজ না পাওয়ার বাস্তব কারণ
ফ্রিল্যান্সিং শিখেও কাজ না পাওয়ার বাস্তব কারণ কি শুধুই বাজারের প্রতিযোগিতা
নাকি এর পেছনে রয়েছে আমাদের নিজেদের ভুল বোঝাবুঝি এবং কৌশলগত দুর্বলতা।
বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি একটি স্বপ্নের নাম। এটি ইনকামের
স্বাধীনতার পথ।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা শুধু এই সমস্যার তালিকাই করব না। বরং প্রতিটি স্তরের
গভীরে গিয়ে সেই সকল তথ্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব এবং উন্মোচন করব। একই সাথে
বাস্তব সম্মত উত্তরের দিক নির্দেশনা দেব। চলুন জেনে নেওয়া যাক।
পেজ সূচিপত্রঃ ফ্রিল্যান্সিং শিখেও কাজ না পাওয়ার বাস্তব কারণ
-
ফ্রিল্যান্সিং শিখেও কাজ না পাওয়ার বাস্তব কারণ
-
তাত্ত্বিক শিক্ষা ও ব্যবহারিক দক্ষতার বিশাল ফারাক
-
দুর্বল পোর্টফলিও ও প্রেজেন্টেশন স্কিল
-
মার্কেটপ্লেস প্রোফাইল ও প্রোপজালের গুণগত মান নিম্ন
-
কমিউনিকেশন স্কিল ও পেশাদার আচরণের অভাব
-
ভুল মার্কেট নিয়ে কাজ করার চেষ্টা ও উচ্চ প্রতিযোগিতা
-
রেট খুব কম বা খুব বেশি নির্ধারণ
-
মার্কেটের চাহিদা ও নিজের দক্ষতার মধ্যে অসামঞ্জস্য
-
ইন্টারভিউ ও ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেল এর প্রস্তুতির অভাব
-
শেষ৷ ফ্রিল্যান্সিং শিখেও কাজ না পাওয়ার বাস্তব কারণ
ফ্রিল্যান্সিং শিখেও কাজ না পাওয়ার বাস্তব কারণ
ফ্রিল্যান্সিং শিখেও কাজ না পাওয়ার বাস্তব কারণ প্রায়ই আমাদের অজান্তে আমাদের কাজের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আপনি হয়তো ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স অথবা ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি কোর্স শেষ করেছেন। সার্টিফিকেট ও হাতে নিয়েছেন। কিন্তু মার্কেটপ্লেস এর প্রপোজাল পাঠানোর পরও কাজের চাহিদা আসছে না। হতাশ লাগছে আপনি একা নন। এর অনেক কার্যকরী এবং সহজ সমাধান রয়েছে। আসুন জেনে নেই সেই প্রধান বাস্তব ও সমাধানযোগ্য কারণগুলো। সার্টিফিকেট সিনড্রোম তাত্ত্বিক জ্ঞানী শেষ কথা নয়।
এটি সবচেয়ে বড় ও সাধারণ ভুল। কোর্স করে একটি সার্টিফিকেট পাওয়া মানে এই নয় যে আপনি মার্কেট রেডি ফ্রিল্যান্সার। কোর্স গুলো আপনাকে টুলস চালানো শেখায়। কিন্তু ক্লায়েন্টের বাস্তব সমস্যা সমাধান, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট বা যোগাযোগের কৌশল শেখায় না। যখন প্রজেক্ট দেন তিনি একটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধান চান না। শুধু একটি ওয়েবসাইটে বা লোগো আপনার তাত্ত্বিক জ্ঞান যদি বাস্তব চ্যালেঞ্জের প্রয়োগ করতে না পারেন, তাহলে ক্লায়েন্ট আপনাকে বেছে নেবেন না। শেখার পর পরই বাস্তব প্রজেক্ট শুরু করুন।
নিজের জন্য বা কাল্পনিক ক্লায়েন্ট এর জন্য কাজ করতে থাকুন। ওয়েব ডিজাইন শিখলে একটি স্থানীয় দোকানের জন্য বিনামূল্যে একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে দিন। এতে করে আপনি আপনার সিভিতে রিয়েল ওয়ার্ল্ড এক্সপেরিয়েন্স যোগ করতে পারবেন। যা যে কোন সার্টিফিকেট এর চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। আপনার পোর্টফোলিও শুধুমাত্র কোর্সের প্রজেক্ট দিয়েই সাজানো। যদি হ্যাঁ হয় তাহলে এটি ফ্রিল্যান্সিং শিখেও কাজ না পাওয়ার জন্য বাস্তব আরেকটি কারণ হতে পারে।
আরো পড়ুনঃ পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ল্যাগ কমানোর নিয়ম
ক্লাইন্টরা আপনার পোর্টফলিও দেখে শুধু কাজের নমুনায় দেখেন না। তারা দেখেন আপনি কিভাবে সমস্যার সমাধান করেন। শর্ট দেখানোর চেয়ে প্রতিটি কাজের সাথে একটি সংক্ষিপ্ত কেস স্টাডি লিখতে থাকুন। সমস্যাটা কি ছিল আপনি কি করলেন এবং ফলাফল কি হলো এগুলো খুঁজে বের করুন। তাহলেই আপনি সফল হতে পারবেন।
তাত্ত্বিক শিক্ষা ও ব্যবহারিক দক্ষতার বিশাল ফারাক
অনেকেই বিভিন্ন কোর্সে শিখেছেন। কিভাবে একটি ওয়েবসাইটের এইচটিএমএলসিএসএস কোড করতে হয়। কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস থিম কাস্টমাইজ করতে হয়। অথবা কিভাবে গ্রাফিক্স ডিজাইন এর টুলস ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু শুধুমাত্র টিউটোরিয়াল ফলো করে কয়েকটি প্রজেক্ট বানালেই বাস্তব বিশ্বের চাহিদা পূরণের দক্ষতা তৈরি হয় না। ক্লাইন্ট যখন একটি প্রকৃত প্রজেক্ট দেয় সেখানেও স্পষ্ট রিকোয়ারমেন্ট পরিবর্তনশীল, প্রয়োজন এবং অপ্রত্যাশিত টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জও থাকে। এই সকল সমস্যার মোকাবেলা জন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞতা এবং সমস্যার সমাধানের দক্ষতা।
বেশিরভাগ তাত্ত্বিক খরছেই থাকে না এর ফারাক্কা। উপায় হল নিজের একটি পোর্টফলিও গড়ে তোলা। কিন্তু সেটিও শুধু কোর্সের প্রজেক্ট কপি করে নয়। বরং নিজে থেকে কাল্পনিক ব্রান্ড বা প্রকল্প নিয়ে বাস্তব সম্মত চ্যালেঞ্জ তৈরি করে তার সমাধান করা। যেমন শুধু একটি ব্লগ ওয়েবসাইট জন্য তার মার্কে অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভেলপ করা গন্ডি পেরিয়ে সে সমস্যা নিয়ে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
দুর্বল পোর্টফোলিও ও প্রেজেন্টেশন স্কিল
অনেক ফ্রিল্যান্সাররা তাদের পোর্টফোলিওতে শুধুমাত্র কাজের স্ক্রিনশট বা একটি লাইভ দিয়ে রাখেন। কিন্তু একজন ক্লায়েন্ট কেন আপনাকে নিয়োগ করবে। তার যুক্তি পোর্টফলিও থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় না। প্রতিটি পোর্টফোলিও আইটেমের সাথে একটি কেস স্টাডি থাকা প্রয়োজন। সেখানে উল্লেখ করতে হবে প্রকল্পের চ্যালেঞ্জ কি ছিল। আপনি সমস্যার সমাধান কিভাবে করলেন। কোন টেকনোলজি ব্যবহার করলেন এবং সবশেষে ক্লায়েন্ট বা ব্যবহারকারীর কি লাভ হল। শুধু আমি একটি ওয়েবসাইট বানিয়েছি বলা।
আর এই ব্যবসার জন্য ওয়েবসাইট বানিয়ে ৩০% বেশি লিড জেনারেট করেছি বলা। এই দুটির মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য রয়েছে। এছাড়া ওপর ফুল ইউটিউব দেখতে পেশাদার এবং সহজে ব্রাউজ যোগ্য হতে হবে। পোর্ট ফলিও যদি প্রথম ৩০ সেকেন্ডের তার সমস্যার সমাধানকারী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে তিনি পরের ব্যক্তির দিকে চলে যাবেন। এই পেশাদার উপস্থাপনার ঘাটতি সরাসরি কাজ হারানোর সমান।
মার্কেটপ্লেস প্রোফাইল ও প্রপোজাল এর গুণগত মান নিম্ন
ফ্রিল্যান্সিং শিখেও কাজ না পাওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। যারা আপওয়ার্ক, ফাইভার বা অন্যান্য মার্কেটপ্লেসে কাজ খোঁজেন। তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে অপরিপূর্ণ প্রোফাইল এবং নিম্নমানের প্রপোজাল। প্রোফাইল পূরণ করতে গিয়ে অনেকে শুধুমাত্র বেসিক তথ্য দিয়ে রাখেন। যেমন নাম দেশ স্কিল্ড। কিন্তু একজন ক্লায়েন্ট আপনার প্রোফাইল দেখে বুঝতে চান। আপনি কেমন ব্যক্তির আপনার কাজের নীতি কি এবং আপনার দক্ষতা প্রমাণের জন্য কোন সনদ বা পরীক্ষার স্কোর আছে কিনা।
প্রোফাইলের টাইটেল, ওভারভিউ এম্প্লয়মেন্ট হিস্টরি এবং স্কিল সেকশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েব কমার্স স্পেশালিস্ট লেখা অনেক বেশি কার্যকর ক্ষেত্রেও একই রকম দুর্বলতা দেখা যায়। কপি পেস্ট প্রপোজাল পাঠিয়ে দেন। তারপর সেই সমস্যার সমাধানে আপনার পূর্বের অভিজ্ঞতা বা ধারণা উল্লেখ করা এবং সবশেষে কেন আপনি সেরা পছন্দ সেটি যুক্তি দিয়ে এই ডিজিটাল ক্ষেত্রে প্রথম ইম্প্রেশন এর গুরুত্ব বুঝতে হবে।
কমিউনিকেশন স্কিল ও পেশাদার আচরণের অভাব
ফ্রিল্যান্সিং শুধু একটি টেকনিক্যাল দক্ষতাই নয়। এটি অনেকাংশ নির্ভর করে আপনার যোগাযোগ, দক্ষতা এবং পেশাদার আচরণের উপর। ফ্রিল্যান্সিং মানে শুধু কম্পিউটারে কাজ করা নয়। এটি ক্লায়েন্টের সাথে সুষ্ঠু যোগাযোগ রক্ষা করে চলা। অনেক ফ্রিল্যান্সার প্রজেক্ট এর বিস্তারিত না বুঝে হ্যাঁ বলে দেন। সময়মতো আপডেট দেন না। ইমেইলে দেরিতে উত্তর দেন বা ক্লায়েন্টের ভাষা বুঝতে ও নিজের কথা স্পষ্ট ভাবে বলতে সমস্যায় পড়েন।
একজন ক্লায়েন্ট যখন আপনাকে নিয়োগ করেন, তিনি শুধু আপনার টেকনিকাল যেন চিন্তা না থাকে। এই ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার উপর দক্ষতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে বোঝা এবং নিয়মিত ফিডব্যাক নেওয়ার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যোগাযোগের ঘাটতির কারনেও অনেক ক্লায়েন্ট হাতছাড়া হয়ে যায়। মনে রাখবেন ক্লাইন্টরা এমন কাউকে পছন্দ করেন, যার সাথে কাজ করতে স্বস্তি বোধ করেন।
ভুল মার্কেট নিয়ে কাজ করার চেষ্টা ও উচ্চ প্রতিযোগিতা
ফ্রিল্যান্সিং শুধু টেকনিক্যাল দক্ষতাই নয়। এটি অনেকাংশে নির্ভর করে আপনার যোগাযোগ, দক্ষতা এবং পেশাদার আচরণের উপর। ফ্রিল্যান্সিং মানে শুধু কম্পিউটারে কাজ করা নয়। এটি ক্লায়েন্টের সাথে সুষ্ঠু যোগাযোগ রক্ষা করে চলা। অনেক ফ্রিল্যান্সার প্রজেক্ট এর বিস্তারিত না বুঝে হ্যাঁ বলে দেন। সময়মতো আপডেট দেন না। ইমেইলে দেরিতে উত্তর দেন বা ক্লায়েন্টের ভাষা বুঝতেও নিজের কথা স্পষ্ট ভাবে বলতে সমস্যায় পড়েন।
আরো পড়ুনঃ ইউটিউব শর্টস থেকে ইনকাম না আসার ১০ টা আসল কারণ
একজন ক্লায়েন্টের যখন আপনাকে নিয়োগ করেন। তিনি শুধু আপনার টেকনিক্যাল না তিনি কিনেন ইংরেজিতে যোগাযোগ করেন। ফিডব্যাক নেওয়ার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আজ এই ফ্রিল্যান্সিং জগতের কাজ শিখেও যারা কাজ পেয়ে থাকে না। মুলত যোগাযোগের ঘাটতির কারণেই ক্লায়েন্টরা হাতছাড়া হয়ে যায়। মনে রাখবেন ক্লায়েন্টরা এমন কাউকে পছন্দ করেন। যার সাথে কাজ করতে স্বস্তি বোধ করেন।
ভুল মার্কেট নিয়ে কাজ করার চেষ্টা ও উচ্চ প্রতিযোগিতা
আপনি কি ভুল মার্কেটে কাজ করছেন। উদাহরণস্বরূপ আপনি একজন জুনিয়র ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপার হিসেবে শুধু মাত্র আপওয়ার্ক বা ফাইবারের জেনারেল মার্কেট প্রাইস এর কাজ খোঁজেন। সেখানে আপনার প্রতিযোগী হবে বিশ্বের লাখো জুনিয়র ডেভলপার। সেখানে কাজ পাওয়া এবং ভালো রেড পাওয়া খুবই কঠিন। নতুন ফ্রিল্যান্সাররা প্রায়ই এই উচ্চ প্রতিযোগিতা পূর্ণ বাজারে প্রবেশ করে হতাশ হয়ে যান।
তারা জানেন না যে আরো অনেক নিশ মার্কেটপ্লেস বা সরাসরি লিঙ্ক ডিন এর সরাসরি ক্লাইন্ট বা এজেন্সি গুলোর সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। অথবা আপনার নিজের একটি বিশেষ সাহিত্য সার্ভিস তৈরি করা। যেমন শুধুমাত্র ডেন্টিস্টদের জন্য ওয়েবসাইট ডিজাইন। এটি আপনাকে সাধারণ প্রতিযোগিতা থেকে আলাদা করবে। এই সমস্যা দূর করতে নিজেকে গলির মোড়ের দোকান না বানিয়ে একটি বিশেষায়িত বুটিক শপ বানানো চিন্তা করতে হবে।
রেট খুব কম বা খুব বেশি নির্ধারণ
অনেক সময় আপনার নির্ধারিত রেড বা ঘণ্টা প্রতি মূল্যের সাথে সম্পর্কিত। নতুনরা প্রায়ই এই দুটি চরম এর কোন একটিতে পড়েন। তারা কাজ পাবার আশায় এত কমরেড নির্ধারণ করেন যে ক্লায়েন্ট রাই সন্দেহ করেন কাজের মান নিয়ে। অথবা তারা অভিজ্ঞতাদের রেড দেখে সেভাবেই দাম ধরে বসেন। কিন্তু তাদের পোর্টফলিও বা অভিজ্ঞতা সেই রেটের সমর্থন করে না। উভয় ক্ষেত্রেই কাজ পাওয়া যায় না।
সঠিক রেট নির্ধারণ একটি কৌশল শুরুতে প্রতিযোগিতার রেট এবং মার্কেটের স্ট্যান্ডার্ড গবেষণা করতে হবে। তারপর নিজের দক্ষতা অভিজ্ঞতা এবং প্রকল্পের জটিলতা বিবেচনা করে একটি যৌথিক রেট সেট করতে হবে। মনে রাখবেন শুরুতে অভিজ্ঞতা ও রেফারেন্স তৈরি করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। গ্রহণ করা যেতে পারে যদি সেগুলো ভালো রেফারেন্স ফলিও আইটেম দিতে পারে। আবার কাজ কমিয়ে দিলে পরে বাড়ানো কঠিন। রেড সম্পর্কিত এই ভুল সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলতে হবে।
মার্কেটের চাহিদা ও নিজের দক্ষতার মধ্যে অসামঞ্জস্য
আপনার শেখা দক্ষতা এবং বাজারের বর্তমান চাহিদার মধ্যে সংযোগের অভাব হতে পারে। অনেকেই এমন স্কিলে বা অধিক প্রতিযোগিতা পূর্ণ স্কিল শিখে ফেলেন। যার জন্য বাজারে চাহিদা খুবই কম বা রেট অনেক নিচু। আবার অনেক নতুন ফ্রেন্ড বা চাহিদা পূর্ণ স্কিল সম্পর্কে তারা অবগত নন। উদাহরণ স্বরূপ বাজারের সাধারণ গ্রাফিক্স ডিজাইন এর চেয়ে ইউ আই ইউ এক্স ডিজাইন, ওয়েব থ্রি ডিজাইন বা ই আই ইন্টিগ্রেশন দক্ষতার চাহিদা ও মূল্য অনেক বেশি। আপনি যদি শুধু ফটোশপ ইলাস্ট্রেটর শিখে বসে থাকেন।
কিন্তু ক্লায়েন্টরা যখন ফ্রি না বা এডোবি এক্সডি দিয়ে প্রোটোটাইপ চায় তখন আপনি পিছিয়ে পড়বেন। এই সমস্যার সমাধানের জন্য নিয়মিত মার্কেট রিসার্চ করা খুবই জরুরী। আপওয়ার্ক এ জব পোস্টিং ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটি দেখে বর্তমানে কোন স্কিল গুলোর চাহিদা বেশি এবং ভালো রেটে কাজ পাওয়া যাচ্ছে তা বুঝতে হবে।
শুধু একটি কোর্স শেষ করেই থেমে যাওয়া চলবে না। বরং মার্কেটে চাহিদা অনুযায়ী নিজের স্কিল সেট আপডেট ও প্রসারিত করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্মে কাজ না পাওয়ার এই সকল সমস্যা দূর করতে হলে, আপনাকে বাজারের ছাত্র হয়ে উঠতে হবে। শুধু একটি ইনস্টিটিউটের ছাত্র হিসেবে থাকলে চলবে না ।
ইন্টারভিউ ও ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেল এর প্রস্তুতির অভাব
ক্লায়েন্টের সাথে সরাসরি কথা বলার বা প্রকল্প হ্যান্ডেল এর প্রস্তুতির অভাব। লাঞ্চিং প্ল্যাটফর্মে কাজ না পাওয়ার একটি কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক ফ্রিল্যান্সার প্রপোজাল পাঠানোর পর যখন ক্লায়েন্ট কল বা মিটিংয়ের জন্য সময় ঠিক করেন। তখন তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারেন না বা ক্লায়েন্টের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেন না। আবার কাজ পাওয়ার পরও প্রকল্পের স্কোপ ডেলিভারি বলস পেমেন্ট সিডিউল এসব পরিষ্কারভাবে ঠিক না করে কাজ শুরু করে দিলে পরবর্তীতে সমস্যা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
আরো পড়ুনঃ উইন্ডোজ ১১ এর নতুন ৮টি ফিচার সম্পর্কে জানুন
ফলে পরবর্তী কাজ বা রেফারেন্স এর জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। সাধারণত কি কি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হতে পারে। যেখানে সব শর্ত লিখিত ভাবে উল্লেখ থাকবে প্ল্যান্টের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন এবং আপডেট দিন। ফ্রিল্যান্সিং শিখেও কাজ না পাওয়ার বাস্তব কারণ দূর করতে শুধু কাজ করাটাই নয়, ক্লায়েন্টের সাথে পেশাদার সম্পর্ক রক্ষা করাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ একটি দক্ষতা।
শেষ কথা ফ্রিল্যান্সিং শিখেও কাজ না পাওয়ার বাস্তব কারণ
ফ্রিল্যান্সিং শিখেও কাজ না পাওয়ার বাস্তব কারণ নিয়ে এই ব্যাপক আলোচনা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে দক্ষতা অর্জন করাটা শুধু যাত্রার শুরু। কিন্তু গন্তব্য নয়। চাকরি না পাওয়ার পেছনে কোন একক বা রহস্যময় কারণ নেই। বরং আছে কৌশল প্রস্তুতি মানসিকতা ও বাস্তবতার সাথে একগুচ্ছ সংঘাত। আমরা দেখেছি কিভাবে তাত্ত্বিক শিক্ষা ও ব্যবহারিক দক্ষতার ফারাক দুর্বল। পোর্টফলিও অকার্যকর প্রপোজাল যোগাযোগের দুর্বলতা এবং মার্কেট রিসার্চ এর অভাব। একজন সম্ভাবনাময় ফ্রিল্যান্সারদের কাজের সুযোগ থেকে দূরে রাখে।
ফ্রিল্যান্সিং একটি পেশা হিসেবে নয়। বরং একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার একটি অনুশীলন। এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, সমালোচনা এবং কৌশলগত পুনর্বিন্যাস। আপনার যোগাযোগ কে হাতিয়ার বানান এবং প্রতিটি ব্যর্থতাকে পরবর্তী প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে দেখুন। সচেতনতাই আপনাকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। মনে রাখবেন আজ যারা সফল ফ্রিল্যান্সার তারাও একসময় প্রথম ক্লায়েন্টের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন। আপনার হাতের দক্ষতা এবং মনের দৃঢ়তাই পারে সেই অপেক্ষার সমাপ্তি টানতে।



এডু ওয়েব আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়। ;
comment url