চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্ট লাগবে কী কী

 

চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্ট লাগবে কী কী তা না জানার কারণে অনেক নতুন আমদানি কারক বিপুল পরিমাণ সময়, অর্থ ও ধৈর্য হারান। চায়না থেকে পণ্য আমদানি বাংলাদেশে হাজারো উদ্যোক্তার জন্য একটি লাভজনক বিনিয়োগ।

চায়না-থেকে-পণ্য-আনতে-কাস্টমস-ডকুমেন্ট-লাগবে-কী-কী

এই আর্টিকেল আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব চায়না থেকে পণ্য আমদানির জন্য বালাদেশ কাস্টমস ও সংস্কৃত কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে এমন সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের তালিকা। চলুন বিষয় গুলো বিস্তারিত জানা যাক।

পেজ সূচিপত্রঃ চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্ট লাগবে কী কী

চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্ট লাগবে কী কী

চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্ট লাগবে কী কী এই প্রশ্নের উত্তর না জানলে আপনার মূল্যবান পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর বা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে থাকতে পারে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ চায়না থেকে পণ্য আমদানি বাংলাদেশের হাজারো উদ্যোক্তার জন্য এখন একটি লাভজনক ব্যবসা। কিন্তু এই পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কাস্টম ক্লিয়ারেন্স। তবে ভয় পাবেন না আমি আপনাকে ধাপে ধাপে তালিকা করে দিচ্ছি সেই সব গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের কথা। যা প্রস্তুত করলে খুব সহজেই আপনার পণ্য পার হয়ে আপনার গোডাউনে পৌঁছে যাবে। 

প্রথমেই আপনার কাস্টমস ক্লিয়ার এর জন্য যা লাগবে তা হলো আপনার ব্যবসার বৈধতা প্রমাণের কাগজপত্র। আপনার আমদানি নিবন্ধন সার্টিফিকেট এবং ট্রেড লাইসেন্স এর কপি অবশ্যই লাগবে। আইআরসি ছাড়া আপনি বৈধভাবে এক টাকারও কোনো আমদানি করতে পারবেন না। এছাড়া আপনার টিআইএন সার্টিফিকেট এবং জাতীয় পরিচয় পত্রের কপিও প্রয়োজন হতে পারে। এই কাগজ গুলো প্রমাণ করে যে আপনি বাংলাদেশে একটি বৈধ ব্যবসা পরিচালনার অধিকারী। এবার আসে চায়না সাপ্লায়ার বা বিক্রেতার কাছ থেকে পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ডকুমেন্ট। 

আরো পড়ুনঃ  বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করার নিয়ম

প্রথমটি হল কমার্শিয়াল ইন ভয়েস। এটি আসলে পণ্যের বিস্তারিত চালান। যাতে পণ্যের নাম, পরিমাণ, ইউনিট প্রাইস এবং মোট মূল্য উল্লেখ থাকে। দ্বিতীয় টি হলো প্যাকিং লিস্ট। যেখানে প্রতিটি কার্টুন এ কি কি পণ্য আছে তার ওজন এবং মাত্রা লেখা থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তৃতীয় ডকুমেন্টটি হলো বিল অফ লেডি বা ইয়ার ওয়ে বিল। এই ডকুমেন্টটি পণ্য পরিবহনকারী কোম্পানি ইস্যু করে এবং এটি পণ্যের মালিকানা দলিল হিসেবে কাজ করে। 

চায়না থেকে পণ্য আনার জন্য এই তিনটি কাগজপত্র ছাড়া আপনি কোন পণ্য আমদানি করতে পারবেন না। উপরের সমস্ত কাগজপত্র আপনার সঠিক থাকলে আপনি বিদেশ থেকে আমদানি ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। আর যদি একটি কাগজ আপনার না থাকে তাহলে আপনি অনেক হয়রানির শিকার হবেন। তাই আগে সঠিকভাবে কাগজপত্র গুলো ঠিক করুন, তারপর ব্যবসা শুরু করুন।

চায়না থেকে পণ্য আমদানির প্রাথমিক ধারণা ও কাস্টমসের ভূমিকা

বাংলাদেশের কোন পণ্য আমদানি করতে গেলে সেটি প্রথমে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ছাড়পত্র নিতে হয়। কাস্টমসের মূল কাজ হলো সরকারের রাজত্ব আদায় নিষিদ্ধ পণ্য প্রবেশ রোধ এবং বৈধ বাণিজ্য নিশ্চিত করা। চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্টস ছাড়া আপনি কখনোই আইনগত ভাবে আপনার পণ্য হস্তগত করতে পারবেন না। এই ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়া আমদানিকারক রপ্তানি কারক পরিবহন সংস্থা এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি আইনি চুক্তির মতো কাজ করে। 

আপনার পণ্য যখন চায়নার কোন বন্দর ফ্রেন্ডজেন সাংহাই থেকে বাংলাদেশের কোন বন্দরে আসে। তখন কাস্টমস করতে করতে চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্টস এর ভিত্তিতে পণ্য পরীক্ষা করে এবং নির্ধারণ করে। ভুল বা অসম্পূর্ণ ডকুমেন্টেশনের কারণে অন্য কাস্টমসে আটকে যেতে পারে। যার ফলে ডেমু রেজার্স এর মত উদ্দীপ্ত খরচ ও অস্বাভাবিক বিলম্ব হতে পারে।

আমদানি নিবন্ধন সার্টিফিকেট ও ট্রেড লাইসেন্স

চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্ট তাড়াতাড়ি প্রায় সর্বপ্রথম যে দুটি কাগজের নাম আসে তা হল আমদানি নিবন্ধন সার্টিফিকেট এবং ট্রেড লাইসেন্স। আপনি যদি নতুন আমদানি কারক হন, তাহলে প্রথমে আপনাকে বিওআই থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। এই লাইসেন্স প্রমাণ করে যে আপনি বৈধ ভাবে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি প্রাপ্ত। এরপর আপনার ট্রেড লাইসেন্স এবং অন্যান্য কাগজ পত্র সহযোগে প্রশংসিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো থেকে আমদানি নিবন্ধন সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে। 

আমদানি নিবন্ধন সার্টিফিকেট নেওয়া চায়না থেকে পণ্য আমদানির আইনের পারমিট বা অনুমতি পত্র। এটি ছাড়া আপনি কোন পণ্যের আমদানি ঘোষনা দাখিল করতে পারবেন না। যার ফলে কাস্টমস প্রক্রিয়ার শুরু হবে না। আই আরসিতে আপনার প্রতিষ্ঠানের তথ্য আমদানি করার পণ্যের শ্রেণী বিন্যাস এবং আমদানির সীমা উল্লেখ থাকে। এটি ডকুমেন্টস হিসেবে আইআরসি এর কপি অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে। মনে রাখবেন আইআরসি সাধারণত ১ বছরের জন্য বৈধ থাকে এবং নতুন করে আবার করতে হয়।

কমার্শিয়াল ইন ভয়েস এবং প্যাকিং লিস্ট

চায়নার সরবরাহকারী বা সাপ্লায়ার আপনার কাছে পণ্য পাঠানোর পর আপনাকে যে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট সরবরাহ করবে তা হলো কমার্শিয়াল ইন ভয়েস এবং প্যাকিং লিস্ট। চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্টস এর জন্য এই দুটির অবস্থান শীর্ষে। কমার্শিয়াল ইন ভয়েস হলো একটি আইনগত চালান। যাতে ক্রেতা এবং বিক্রেতার নাম, ঠিকানা, পণ্যের বিস্তারিত বর্ণনা ইউনিট প্রাইজ মোট মূল্য পেমেন্টের শর্তাবলী উল্লেখ থাকে। এই ইন ভয়েসের ভিত্তিতেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষের পণ্যের শুষ্ক মূল্য নির্ধারণ করে। 

চায়না-থেকে-পণ্য-আনতে-কাস্টমস-ডকুমেন্ট-লাগবে-কী-কী

প্য়াকিং লিস্ট হলো কোনো প্যাকেজিংয়ের বিস্তারিত বিবরণ। এতে প্রতিটি কার্টুন বা প্যাকেজের নম্বর তার মধ্যে কি কি পণ্য আছে প্রতি প্যাকেটে পণ্যের সংখ্যার নেট ওয়েট গ্রস ওয়েট এবং মোট প্যাকেজের পরিমাণ উল্লেখ থাকে। চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্ট হিসেবে প্যাকিং লিস্ট কাস্টমস অফিসারদের পণ্য ফিজিক্যালি চেক করতে সাহায্য করে। এটি নিশ্চিত করে যে আপনি যতটুকু পণ্য অর্ডার দিয়েছেন, ঠিক ততটুকুই এসেছে এবং কোন বেআইনি পণ্য লুকানো হয়নি।

বিল অফ লেডিং বা এয়ার ওয়ে বিল

চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্টস এর তালিকায় একটি আবশ্যিক এবং অপরিহার্য দলিল হলো বিল অফ লেডিং। এটি মূলত পরিবহন সংস্থা কর্তৃক জারিকৃত একটি রশিদ ও চুক্তিপত্র। বিল অফ লেডিং তিনটি প্রধান কাজ করে। প্রথমত এটি পণ্য রিসিভ এর রশিদ যাতে উল্লেখ থাকে। যে পণ্যটি নির্দিষ্ট অবস্থায় জাহাজে তোলা হয়েছে। দ্বিতীয়তঃ এটি পণ্য এর মালিকানা দল। তৃতীয়তঃ এটি পরিবহন চুক্তির প্রমাণ পত্র। 

বিল অফ লেডিং এর সাধারণত শিপার কনসাইনি জাহাজের নাম, ভয়েস নম্বর, লোডিং ডাউনলোডিং। ডাউনলোডিং পোর্ট পণ্যের বর্ণনা, প্যাকেজ সংখ্যা, ওজন এবং ফ্রেড চার্জের বিস্তারিত থাকে। চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টম ডকুমেন্ট হিসেবে আপনাকে এই বিল অফ লেডিং এর মূল কপি বা এর কপি কাস্টমসে জমা দিতে হবে। সমুদ্র পথে আসা পণ্যের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বন্দরে পূর্ণ হস্তান্তর করার জন্য এই মূল দলিলটি চাবিকাঠি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের লেটার অফ ক্রেডিট বা রেমিটেন্স প্রমাণ

চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্ট লাগবে কি কি। এর সাথে সরাসরি জড়িত অর্থ প্রদানের প্রমাণ পত্র। বাংলাদেশ থেকে চায়না পণ্যের মূল্য পরিশোধের দুটি প্রধান পদ্ধতি হলো লেটার অফ ক্রেডিট এবং টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার। যদি আপনি লেটার অফ ক্রেডিট এর মাধ্যমে পেমেন্ট করে থাকেন, তাহলে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এর সময় বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত সেই এলসি এর কপি জমা দিতে হবে। এই এলসি কপিতে আমদানিকৃত পণ্যের বিবরণ মূল্য এবং ব্যাংকের স্বীকৃতি থাকবে।

আরো পড়ুনঃ ইউটিউব শর্টস থেকে ইনকাম না আসার ১০ টা আসল কারণ 

লেটার অফ ক্রেডিট একটি নিরাপদ পদ্ধতি। কারণ ব্যাংক মধ্য তদারকি হিসেবে কাজ করে এবং পেমেন্ট নিশ্চিত করে। চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্ট হিসেবে প্রমাণ করে যে আপনি বৈধ ভাবে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার করে পণ্য আমদানি করেছেন। আপনার ব্যাংক থেকে আপনি এল সি কপি সংগ্রহ করতে পারবেন। যদি আপনি টিটি বা সরাসরি পেমেন্ট করে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে টাকা প্রেরণের প্রমাণ পত্র সংগ্রহ করতে হবে।

ইন্সুরেন্স পলিসি সার্টিফিকেট এর ভূমিকা 

চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্টস ইন্সুরেন্স পলিসি বা সার্টিফিকেট যখন আপনি কস্ট ইন্সুরেন্স বা সি আই পি ইন কোর্টান্স এর পূর্ণ অর্ডার করেন। তখন সাধারণত চায়নার সাপ্লায়ার বা শিপারি পণ্যের বীমা করিয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে আপনাকে আরো একটি ইন্সুরেন্স পলিসি সার্টিফিকেট প্রদান করবে। এটি প্রমাণ করে যে সমুদ্র বা আকাশ পথে পরিবহনের সময় পূর্ণ ক্ষতি হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত ফি একটি বীমা কোম্পানি বহন করছে। ইন্সুরেন্স সার্টিফিকেটে সাধারণত বীমা কৃত পণ্যের বিবরণ পলিসি নম্বর বিমাকৃত মূল্য ভয়েস ফ্লাইট বিবরণ এবং কাভারেজ এর ধরন উল্লেখ থাকে। 

চায়না-থেকে-পণ্য-আনতে-কাস্টমস-ডকুমেন্ট-লাগবে-কী-কী

চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্ট হিসেবে এটি জমা দেওয়া বাধ্যতা মূলক। যদি না পণ্য ফি অন বোর্ড বা অন্যান্য শর্তে আসে। যেখানে বীমার দায়িত্ব আপনার কাস্টমস প্রক্রিয়ায় এটি পণ্যে নিরাপত্তা ও মূল্য যাচাইয়ের একটি অংশ। যদি আপনি নিজে বাংলাদেশ থেকে বা তৃতীয় কোন দেশ থেকে ইন্সুরেন্স করে থাকেন, তাহলে সেই পলিসি কপি জমা দেবেন। চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্টস এর ক্ষেত্রে বিবেচনায় ইন্সুরেন্স সার্টিফিকেট এর সঠিকতা নিশ্চিত করা খুবই জরুরী।

ইমপোর্ট পারমিট বা নজরদারি সনদ 

চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্ট লাগবে কী কী এই তালিকা সব পণ্যের জন্য সমান নয়। কিছু নির্দিষ্ট ধরনের পণ্য আমদানি করতে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে পূর্বানুমতি বা ইমপোর্ট পারমিট নেওয়া বাধ্যতা মূলক। এটি নিয়ন্ত্রিত বা সেনসিটিভ পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন ওষুধ, খাদ্য উপকরণ, রাসায়নিক দ্রব্য, টেলিযোগাযোগ, সরঞ্জাম, কৃষি উপকরণ, পশু খাদ্য ইত্যাদি। এই পারমিট ছাড়া আপনি ঐসব পণ্য কাস্টমস ক্লিয়ার করতে পারবেন না। 

ইমপোর্ট পারমিটের জন্য আপনাকে পণ্যের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। যেমন ওষুধ আমদানির জন্য ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। খাদ্য দ্রব্যের জন্য বাংলাদেশ স্টান্ডার এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং কৃষি পণ্যের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়। চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টম ডকুমেন্ট হিসেবে এই পারমিটের মূল কপি বা সত্যায়িত কপি কাস্টমসে জমা দিতে হবে। অনেক সময় পণ্য কাস্টমসে আসার পরও এই পারমিটের জন্য অপেক্ষা করতে ডিমোরেজ চার্জ পড়ে।

কাস্টমস ঘোষণা পত্র ও এইচএস কোড সনদ 

চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্টস লাগবে এর প্রাণকেন্দ্র হলো কাস্টমস ঘোষণা পত্র বা বিল অব এন্ট্রি। এটি হচ্ছে সেই আনুষ্ঠানিক দলিল। যার মাধ্যমে আপনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে আপনার আমদানিকৃত পণ্যের সম্পূর্ণ তথ্য জানান এবং শুল্ক পরিষদের অনুরোধ করেন। এই ঘোষণাপত্র এখন অনলাইনে পূরণ করতে হবে এবং সেখানে উপরোক্ত সমস্ত ডকুমেন্টের তথ্য ব্যবহার করতে হয়, উল্লেখ করতে হয়। এইচএস কোড হলো পণ্যের আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত ৮ থেকে ১০ ডিজিটের একটি সাংখিক পরিচয়। 

আরো পড়ুনঃ রেল সেবা ই-টিকিট অ্যাপে User login is failed সমস্যার সমাধান

প্রতিটি পণ্যের আলাদা এইচেস কোড আছে এবং এই কোডের উপর ভিত্তি করে কাস্টমস এর হার নির্ধারণ করে। চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্ট প্রস্তুতির সময় সঠিক এইচএস কোড নির্বাচন করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ গুলোর একটি ভুল করলে আপনি কম বা বেশি শুল্ক দিতে পারবেন। যা পরে জরিমানা বা জবাবদিহিতার কারণ হতে পারে। বিল অব এন্ট্রি হলো সেই চূড়ান্ত আবেদন যার উপর ভিত্তি করে কাস্টমস পণ্য পরিদর্শন করে এবং শুল্ক আদায় করে পণ্য ছাড় পত্র দেয়। এটির প্রিন্টেড কপি কাস্টমস অফিসে জমা দিতে হয়।

শেষ কথাঃ চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্ট লাগবে কী কী

চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্ট লাগবে কী কী তা নিয়ে বিস্তারিত জানার পর এখন আসে চূড়ান্ত চেকলিস্ট তৈরীর সময়। প্রতিবার শিপমেন্টের আগে এই তালিকা মিলিয়ে নিন। আমদানি নিবন্ধন সার্টিফিকেট কপি, চেঞ্জ কপি, কমার্শিয়াল ইন ভয়েস কপি, প্যাকেজিং লিস্ট বিল অফ লেডিং এয়ার ওয়ে বিল সার্টিফিকেট, রেমিটেন্স প্রমাণপত্র, ইমপোর্ট পারমিট টেস্ট রিপোর্ট, কান্ট্রি অফ অরিজিন সার্টিফিকেট, অনলাইন বিল অফ এন্ট্রি প্রিন্ট। এই সবকিছু চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্টের সফট কপি গুলো আপনার ইমেইল ও কম্পিউটারে সংরক্ষণ করুন। 

সময়মতো সব কাগজপত্র চায়না থেকে সংগ্রহ করতে সাপ্লায়ার এর সাথে ভালো যোগাযোগ রাখুন। চায়না থেকে পণ্য আনতে কাস্টমস ডকুমেন্ট প্রস্তুত ও জমা দেওয়া একটি দক্ষতা মূলক কাজ। যা অভিজ্ঞতার সাথে সহজ হয়ে যায়। কখনই ডকুমেন্ট ভুল তথ্য দেবেন না বা জালিয়াতের পথে যাবেন না। বাংলাদেশ কাস্টমসের ওয়েবসাইট এবং নির্দেশিকা নিয়মিত চেক করুন। কারণ নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে আপনার আমদানি ব্যবসা কে মসৃণ লাভজনক ও টেকসই করে তোলার। এই আর্টিকেল আপনার যাত্রা কে সহজ করুক এই কামনা রইল।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এডু ওয়েব আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়। ;

comment url

MD. Mukta
MD.Mukta
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও এডু ওয়েব আইটি-এর অ্যাডমিন তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি ক্লায়েন্টদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।